রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

যুদ্ধ নয় শান্তি



যুদ্ধ নয় শান্তি
আবুলকালামআজাদবাসু
যুদ্ধ নয় বরং শান্তি
শত্রুকে খেপায়ে বলে দমে ক্লান্তি ৷
পিছুটান শাব্দিক জড়বুদ্ধি
বোধি কৌতুক জড়াবট চাঁদনী ৷

হও পঙ্গু চলন্ত চলোমি,
আশায় দেয় জ্বলন্ত কুবুদ্ধি,
ধুর্ত কথায় নয় বরং আরতি
যুদ্ধ নয় বরং শান্তি ৷

দশ বাঁচাতে যারা পথচারী
পিতা তাদের আছে বাঁচি ৷
প্রয়োজনে আশা নিয়ে থাকি
কাটাব কাল সবাইকে ভালবাসি ৷

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

শিশুর হাসি



শিশুর হাসি
আবুলকালামআজাদবাসু
পুতুল পুতুলের খেলনা
চাপে করে কিচিমিচি ৷
দাদী দেয় দোল দোল,
দোলনায় পুতুলের কিচিমিচি
শব্দের ডাকে শিশু হাসে ৷
মা দেয় সুতায় বেঁধে রঙিন বেলুন
হাত পা নেড়ে শিশু দাবায় তখন,
ছুড়ে যায় এপার ওপার বেলুন
তা দেখে শিশু খিলখিল হাসে
মায়ের আনন্দ তখন জোয়ারে ভাসে ৷


রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

চেরাগবাতি



চেরাগবাতি
আবুলকালামআজাদবাসু
একদা ছিল চেরাগ পাহাড়ে
চেরাগ বাতি ৷
আজি লাল নীল চট্ট শহর
জোনাকির মত বাতি জ্বলে
পাহাড় আর প্রাসাদে
একদা ছিল চেরাগ পাহাড়ে
চেরাগ বাতি;
চট্ট শহরের পাহাড়ে ৷
সারারাত যেন জোৎস্নার আলো,
চন্দ্র-আলো মিশে গেছে
উঁচু পাহাড়ের গায়ে
নীচে জ্বলে ঝিলিমিলি বাতি ৷
ইতিকথা এখনও বলা হয়নি,
হাজার বছর আগে ছিল
কেবল পাহাড় অরণ্য ভুমি
মানুষের ছিল না ঠাঁই
তবে ছিল খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী ৷
পাহাড়ে নিবাস ছায়ার মত জিন-পরী,
এক ধার্মিক এসে পাহাড়ে
জ্বালাইয়া দিল চেরাগ বাতি ৷
ধীরে ধীরে গড়ে উঠল বসতি ৷

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

শিল্পীর অঙ্কন



শিল্পীর অঙ্কন
আবুলকালামআজাদবাসু
সে যে এক সুন্দরমনা
সে মায়মুনা, সে মায়মুনা ৷
শৈশব তার যে ছিল কল্পনা
স্কুলে গিয়ে করবে পড়াশুনা
সে কি ছবি আঁকবে না!
মনে মনে তার কত জল্পনা ৷
শৈশব পার করে দিল খেলনা,
তার কাছে এল রাজার ছানা
দৈত্যরাজার একমাত্র সন্তান ৷
সেইসাথে পরীদের আনাগোনা,
বহন করে আনে বৃহৎ রূপ ঘোড়া
সর্ব অঙ্গ মানুষ আছে চেহারা,
নীচ অংশ মানুষের নয় যেন ঘোড়া ৷
ছবি অঙন তার শেষ হয় না
এলো মানুষ-রূপ ঘোড়া একদা,
সেই ছবি আজও জল্পনা কল্পনা;
সে ছিল মায়মুনা, মায়মুনা ৷

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কবির গুপ্তকথা



কবির গুপ্তকথা
 আবুলকালামআজাদবাসু

আকাশে ভাসে ঝিকিমিকি তারা
তাদের মাঝে বাস করে বন্ধন কণা
আকাশের নীল রঙ আভা
তাইতো তার  এত মায়া ৷
ভাসে যত গ্যাসীয় বাতাসে
তাতে আছে মানুষের প্রাণের বন্ধন
আপনারে কে নাহি ভালবাসে ?
বাতাসের গন্ধে আপন বাঁচে ৷
শান্তিতে তার নাচন দেখে
পশুপাখি যত গান গায় ছন্দে ছন্দে ৷
মাটির আছে এক প্রেম-শক্তি
জীবনে আনে রচনার উক্তি
রচন কভু হয় না শেষ ৷
জলের আছে জীব-শক্তি
পাতালে তাদের নিবাস ৷
মণি মুক্তা যত লৌহ গঠন
পাথর রূপ কয় কথন,
আকাশে আছে মজুদ নিবন্ধন ৷
মানুষে গায় গুণগান
আসলে জানে না কেউ
কবির গুপ্ত কথার উপাখ্যান ৷

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ভাবুক পেয়ে হারায়



ভাবুক পেয়ে হারায়
আবুলকালামআজাদবাসু

এমন কোন ভাবুক আছে দুনিয়ায়,
পেয়ে গুপ্তধন বলে নি যে হারায় নি!
তুঁমি যে কেমন ওগো হে জানি না আমি,
তা কথায় চিন্তায় প্রকাশ নাহি পায় ৷
মানুষ যদি না করতে সৃষ্টি ধরায়,
হতো ভাল থাকতাম যে সুখে তথায় ৷
ভুল করে বলা মোর নিরেট আশায়,
তুমি যা জান কেউ যে তা জানে না ওগো ৷
মানুষ হয়ে কেন যে এলাম ধরায়,
কি যে ছিল অপূরণ মানুষের গায় ৷
আসতে হলো তা জানতে বসুন্ধরায়,
সে টি শিখতে বিবেকের তাড়নায় ৷
শুদ্ধ অশুদ্ধ রীতি নীতি এ দুনিয়ায়,
সে যে মানুষের কাছে আসে আর যায় ৷

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কর্মফল



          কর্মফল
আবুলকালামআজাদবাসু

দুনিয়ায় অবতরণ প্রথম কাঁদন
শ্বাস রুদ্ধ থলে তার আবরণ ৷
পশুপাখি কাঁদে কিনা জানি না
চীৎকার তার হয় না বারণ ৷
ঘুমে হাসে কষ্টে কাঁদন
আনন্দে অশ্রুজল, দুঃখে হাহাকার,
বিভীষিকাময় স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত মন ৷
দুঃখে কষ্টে গড়া বাড়ীঘর সংসার
কভু হয় না আপন ৷
গোত্র বিশেষ পরিবেশে যায় ভেস্তে
রহে না কেহ কালে নিজের মতন ৷
শিশু নারী বৃদ্ধ পায় যত জ্বালাতন
রাজা যদি আসে দেশে নিপীড়ন ৷
চীৎকারে দূ-কূল ভেসে নদীর জল
উতলিয়ে আলিঙ্গন করে মরণ ৷
লালসায় যাদের জীবন
তারাই আবার চীৎকারে বলে আপন আপন ৷
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা যখন আসে,
কেউ নাহি পারে তা ঠেকাতে সেই ধরণ ৷
প্রকৃতির দেয় লালসা তুচ্ছ তখন৷
কে বা কি কালে চিনে আপন ৷
লালসার রাজা বাহদূর ততক্ষণ,
ওপার কি বা তার পরিবর্তন !
মরার তাকে না কোন লক্ষণ
মরতে চাহিলেও হয় না মরণ ৷
ভাল্লুক তার রূপ করে গ্রাস
তথায় নাহি যায় রাজার প্রাণ ৷
উত্তপ্ত রাখে তারে উদরে
হজম বিনা বমি করণ ৷
রাজাবাবুর নাহি হয় মরণ,
সিদ্ধ রূপ তাপে এসে বলে শীতল ভূমি
আবার বাঁচার লাগি হয়ে উঠে প্রাণ পণ ৷
অদূরে দৈত্যরাজ সর্প মাথা তুলে
বলে কই যাবে এত সকালে ?
ক্ষিধায় বাঁচি না !
সাঁজ সকাল এসো না উদরে,
কুমীর রূপ মূখ তার
রাজার সতেজ দেহখানি করে গ্রাস ৷
ভক্ষণে হজমে ক্ষুধা হয় নিবৃত্ত
রাজাবাবু উদরে চীৎকার করে বলে
সবই হয়েছে শেষ
প্রান হয়নি নাশ ৷
শুনিয়া সর্প ক্ষীণ করে বমি
রাজা দেখে জন্মিছে সে
নতুন এক রূপে সেই ভবে ৷
এমনি তরে কতকাল যাবে
নাহি বুঝে ধাঁ ধাঁর রাজা
আপনারে লয়ে বিব্রত
নিজ কল্পনা সুখে ৷
পরের ঘর পরের বাড়ী
নিরীহ প্রাণ যায় বলি ৷
ধরণীর বুকে প্রথম পদার্পণ
ছিল তার ক্রন্দন ৷
নাহি ফুটে হাসি মূখে
সেই নিয়ে রাজার হয়েছে মরণ ৷